ক্রেডিট কার্ড লাভ না লস? কার জন্য লাভ! আর কার জন্য লস!

বেশিরভাগ লোকজনের মতে ক্রেডিট কার্ড মানে লস, কথাটা সত্যি নয়। যাদের নিজেকে কন্ট্রোল করার ক্ষমতা নাই, অর্থাৎ বেহিসাবি লোকজনের জন্য ক্রেডিট কার্ড অবশ্যই লস প্রজেক্ট। তাদের ক্রেডিট কার্ড না থাকাই ভালো।

ক্রেডিট কার্ড লাভ না লস? কার জন্য লাভ! আর কার জন্য লস!

যাদের জন্য লাভ:

১. যারা নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণ করেন: বিদেশে ফরেন কারেন্সি খরচ করার চেয়ে ক্রেডিট কার্ড ইউজ করা অনেক সহজ ও লাভজনক। তবে অবশ্যই বিদেশে গিয়ে এটিএম বুথ থেকে ক্যাশ তুলবেন না।

2. যারা প্রায়োরিটি পাস নিতে পারেন: এই পাস দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারপোর্টে একদম ফ্রিতে লাউঞ্জ ব্যবহার করতে পারবেন এবং খেতে পারবেন।

3. হিসাব নিকাশ মনে রাখতে পারেন: আপনার লিমিট এবং বিলের ডেট সব সময় মনে রাখতে হবে। কখনোই মাসিক বিল যেন বিলিং ডেট পার না হয়। কখনোই লিমিটের বেশি ব্যবহার করা যাবে না।

4. বেহিসাবি নয় এমন ব্যক্তিদের জন্য: ক্রেডিট কার্ড আছে খরচ করতে থাকি...এই চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আপনার অবশ্যই মাস শেষে বিল পরিশোধের ক্ষমতা থাকতে হবে এবং সে হিসেবেই খরচ করতে হবে।

5. যাদের অফার গ্রহণ করার সচেতনতা আছে: প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অনেক সময় ক্রেডিট কার্ডে ডিসকাউন্টে পাওয়া যায় সেগুলি খেয়াল রাখতে হবে।

ক্রেডিট কার্ডের একটি বড় চিন্তার বিষয় বাৎসরিক চার্জ! এই চার্জ ব্যাপারটা সম্পূর্ণ আপনার নিজের উপর।

আমি বিগত ২৩ বছর যাবত একাধিক ক্রেডিট কার্ড ইউজ করছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন ক্রেডিট কার্ডেরই বাৎসরিক চার্জ আমাকে দিতে হয়নি। 

কিভাবে: ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার সময় অবশ্যই ব্যাংকের সাথে চেক করে নিবেন বাৎসরিক চার্জ মওকুফের প্রসেসগুলো কি কি? যেমন বেশিরভাগ ক্রেডিট কার্ডেই ১৮/২৪ টা ট্রানজেকশন হলে বাৎসরিক চার্জ ফ্রি হয়ে থাকে। 

আমি এখন ২ টা কার্ড ইউজ করি, এরমধ্যে একটা সিগনেচার কার্ড ইউজ করি বিগত ৯ বছর যাবত, বাৎসরিক চার্জ ১২ হাজার টাকা++, কিন্তু মজার ব্যাপার হলো কখনোই আমাকে বাৎসরিক বিল দিতে হয়নি, প্রতি বছরই ইউজের পয়েন্ট আর্নিং দিয়ে ওই বাৎসরিক চার্জ এডজাস্ট হয়ে যায়। পাশাপাশি এই কার্ডের এগেনেস্টে প্রায়োরিটি পাস দিয়ে বিশ্বের যে কোনো দেশের আনলিমিটেড লাউঞ্জ ফ্রীতে ব্যবহার করতে পারছি। 

টিপস ফর ক্রেডিট কার্ড ইউজার:

১. দুইটার বেশি কার্ড রাখার দরকার নেই। তারিখ মনে রাখা কঠিন।

2. সব সময় বিলিং তারিখ মনে রাখুন।

3. কখনো কোন অবস্থাতেই খুব বেশি বিপদে না পড়লে ক্যাশ তুলবেন না।

4. বাৎসরিক চার্জ হওয়ার ডেট মনে রাখুন। দুই মাস আগেই চার্জ মওকুফ বিষয়টা কনফার্ম করুন।

5. একই ব্যাংকে একাউন্ট থাকলে অটো ডেবিট ইনস্ট্রাকশন দিয়ে রাখুন।

6. কার্ড নেওয়ার আগেই বিভিন্ন ব্যাংকের সুবিধা সমূহ দেখে নিন। 

7. কার্ড ব্যবহার করা না হলে অতিসত্বর সারেন্ডার করুন।

8. অপ্রয়োজনে খরচ করবেন না।

9. কার্ড পিন ও otp কাউকে শেয়ার করবেন না।

10. সাপ্লিমেন্টারী কার্ড না নেওয়াই ভাল, কারণ ভালোবাসার টানে খরচ হতেই থাকবে😂।

সারাংশ: সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে ক্রেডিট কার্ড অবশ্যই লাভজনক।

Post a Comment

Previous Post Next Post