Anthropic-এর অফিশিয়াল রিপোর্টে বাংলাদেশ: AI দিয়ে আমরা আসলে কী করছি?

AI প্রতিষ্ঠান Anthropic সম্প্রতি তাদের বিশ্বব্যাপী ব্যবহারকারীদের ওপর ভিত্তি করে একটি অফিশিয়াল রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সেখানে বাংলাদেশ অংশটুকু নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ অ্যানালাইসিস করলাম এবং খুব ইন্টারেস্টিং কিছু বিষয় সামনে আসলো।

Anthropic-এর অফিশিয়াল রিপোর্টে বাংলাদেশ: AI দিয়ে আমরা আসলে কী করছি?

বিশ্বের ১২১টি দেশের মধ্যে Claude AI ব্যবহারের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৬তম! Usage Index মাত্র 0.11x (যেখানে বিশ্বব্যাপী অ্যাভারেজ ধরা হয় ১.০০x)— অর্থাৎ বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় ১০ ভাগের ১ ভাগ! ঠিক এতটাই আমরা পিছিয়ে আছি।

তবে সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশিরা মূলত কী কাজে Claude ব্যবহার করছে?

১. কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও কপিরাইটিং (২৪.৬%)

এটার পরিমাণ একটু বেশি হওয়ায় আমি কিছুটা অখুশি। বাংলা ভাষায় এ পর্যন্ত তৈরি করা Claude Tutorial ভিডিও যদি ইউটিউবে সার্চ করেন, তবে দেখবেন ১০টার মধ্যে ৬টা ভিডিওর টাইটেলই এরকম:

"Claude দিয়ে SEO করে মাসে ইনকাম করুন ১ লক্ষ টাকা!"

"শুধুমাত্র Claude কোড দিয়ে ওয়েবসাইট বানিয়ে জেনারেট করুন কোটি টাকা!"

"Claude দিয়ে ইউটিউব ভিডিও অটোমেশন করে কোটি টাকা ইনকাম করুন!"

একটু চিন্তা করুন—বিলিয়ন ডলার খরচ করে একটা অর্গানাইজেশন একটা ওয়ার্ল্ড-ক্লাস AI মডেল বানিয়েছে, আর আমাদের মেন্টালিটি কেবল সেখান থেকে "টাকা ইনকাম" করার! আজ থেকে ১০ বছর আগে ইউটিউবে "Earn Money Online" লিখে সার্চ দিলে যেমন ভিডিও আসত, এখনো আমরা সেই একই মানসিকতা থেকে বের হতে পারিনি

২. Education & Learning (২২.৯%)

প্রাথমিক লেভেলে এটা দেখে বেশ ভালো লেগেছিল But but but ....

Homework (১০.৪%),এটি একটি মারাত্মক অ্যালার্মিং কন্ডিশন! শিক্ষার্থীরা ক্লাসের হোমওয়ার্ক সরাসরি এআই দিয়ে করিয়ে নিয়ে আসছে। এতে তারা নতুন কিছু শেখা তো দূরের কথা, উল্টো প্রযুক্তির ওপর পঙ্গুর মতো ডিপেন্ডেন্ট হয়ে পড়বে। (চীনসহ বড় বড় দেশগুলোতে কিন্তু শিক্ষার্থীদের হোমওয়ার্কে AI ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে) 

সেলফ-প্রেজেন্টেশন রাইটিং (CV/Bio/Intro), ৪.৪%, স্লাইড ডেক/প্রেজেন্টেশন তৈরি: ২.০%,  যেটা একটা ভালো লক্ষণ কারণ এটাতে খুব দ্রুত অনলাইনে রিকগনাইজ হওয়া যায় তার পাশাপাশি সুন্দর সিভিও/PPT তৈরি করা যায় যেটা সবাই পছন্দ করে

প্রমোশনাল রাইটিং: ৫.৭% যেটার একটা বড় অংশ মূলত ফেসবুকে পোস্ট, LinkedIn বিভিন্ন পোস্ট এরকম টাইপের জিনিসের উপরে প্রথমদিকে এটা ঠিক ছিল কিন্তু এখন এরকম রোবটিক টাইপের জিনিস পড়তে মানুষের বিরক্ত লাগে

৩.  সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট: ১৬.৭%

অবশ্যই এটা খুশি হওয়ার মত একটা অংশ কারণ আমি মনে করি যে AI সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এবং অ্যাপ্লিকেশনের ফিল্ড টাকে নতুনভাবে পরিবর্তন করছে এখন এই সময় যদি ভালোভাবে এটাকে এডাপ্ট করে নেওয়া যায় তাহলে আমাদের সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের ফিল্ড অনেক এডভান্স হতে পারে, এ আই সফটওয়্যার ডেভলপারদের কাজ অনেক সহজ করে দিয়েছে স্পেশালি ওয়েব ফ্রন্ট-এন্ড কোডিং (Web Front-End): ৬.০% , AI অ্যাপ বিল্ডিং: ২.০% - এগুলো প্রমান করে প্রফেশনালরা কোডিং সহজ করতে Claude ব্যবহার করছেন

৪.  রিসার্চ ও ইন্টেলিজেন্স: ৮.৪%

আমার সবচেয়ে কষ্ট লাগছে এই অংশে, ম্যাথ এবং CS থিওরি: ৩.৩%, সায়েন্স সংক্রান্ত আলোচনা: ২.২%, বাঙ্গালীদের গবেষণায় আগ্রহ খুব কম এবং গবেষণা যেহেতু পেটের ভাত দেয় না এবং বাইরে যাওয়ার জন্য শুধুমাত্র একটা রিসার্চ পেপার লাগে তাই হয়তোবা এটার ব্যবহার কম ...

Starting a Business: ৩.৫% যে রয়েছে এটা আবার অন্য জিনিস, গরুর ফার্ম শুরু করা থেকে শুরু করে আমি কোন এক্সপেরিয়েন্স ছাড়াই CEO হতে চাই এরকম টাইপের রিসার্চ রয়েছে..

(বাকি অংশের মধ্যে Hobby & Lifestyle: ৫.৭% এবং Document Processing: ৪.৯%, যা মূলত স্বাভাবিক কাজের অংশ। এসব কাজে বেশিরভাগ মানুষ ChatGPT বা Gemini ব্যবহার করে থাকে।)

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল সবচেয়ে পাওয়ারফুল AI ব্যবহারের হার এত কম কেন?

1. সাধারণ মানুষের কাছে "AI" মানেই ChatGPT বা Gemini। 'First Mover Advantage' কিংবা দৈনন্দিন সাধারণ ফ্রি কাজের জন্য মানুষ এগুলোতে অভ্যস্ত।

দু চারটা AI ছবি বানাইলাম, Jorina > Jerin 

সুন্দর একটা ইমেইল, ক্লাইন্টকে মেসেজ দিলাম

ফেসবুকে এমন ক্যাপশন দিলাম যেটা আমি বাপের জন্মেও লিখতে পারতাম না

ফেসবুক কমেন্টে জ্ঞানী সাজার জন্য বেশ কিছু টিপস নিলাম

 2. Claude Pro ($20/মাস) বা Anthropic API ব্যবহারের জন্য ক্রেডিট কার্ড ও ডলার অ্যান্ডোর্সমেন্ট প্রয়োজন, বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষের এই ক্রেডিট কার্ড নাই পাশাপাশি আমরা সবসময় একটু ফ্রি খোঁজার চেষ্টা করি.. সাবস্ক্রিপশন 20 ডলারের হলেও এটা শেষ হতে কতক্ষণ লাগে নিশ্চয়ই সবাই জানেন তাই  শিক্ষার্থী কিংবা তরুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটা বড় সমস্যা

3. বাংলাদেশে Claude-এর এককভাবে সবচেয়ে বড় ব্যবহার হলো হোমওয়ার্ক (১০.৪%) এবং প্রমোশনাল/কপিরাইটিং (২৪.৬%) কর্পোরেট অটোমেশনের চেয়ে ব্যক্তিগত বা ছোটখাটো কাজের জন্যই এআই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে

4. ওয়েব ফ্রন্ট-এন্ড (৬.০%), ম্যাথ ও কম্পিউটার সায়েন্স (৩.৩%) এবং এআই অ্যাপ বিল্ডিং (২.০%) মূলত এটা বুঝায় যে নতুন ফ্রিল্যান্সার কিংবা প্রোগ্রামার যারা রয়েছেন তারা আস্তে আস্তে এটার উপর নির্ভরশীলতা বাড়াচ্ছে এবং এটা একটা ভালো দিক কিন্তু যারা শুধুমাত্র vibe Coding করতেছেন তারা দিন শেষে কিন্তু মাইর খাবে, 

যে জিনিস AI করতে পারে সেটার জন্য আপনাকে নিশ্চয়ই কেউ হায়ার করতে যাবে না, AI মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এটা এমন ভাবে বানাতে হবে যাতে যে কেউ ব্যবহার করতে পারে, সাধারণ ইউজাররা শুধুমাত্র কয়েকটি click এটা ব্যবহার করতে পারে

এজন্য Hermes প্রথমে CLI যখন কঠিন মনে হলো তখন সিম্পিল একটা ডেক্সটপ GUI APP লঞ্চ করে দেওয়া হল এবং সেটার মাধ্যমে খুবই ইজিলি কাজ করা যাচ্ছে  OpenClaw হয়তোবা কিছু হলেও কঠিন পার্ট রয়েছে hermes সেটাও নেই আমি দুটো Youtube Tutorial  ভিডিওতে দেখেছিলাম...

গ্লোবাল ডিজিটালাইজেশন ও ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে  তরুণদের কেবল ফেসবুক পোস্ট বা সাধারণ অ্যাসাইনমেন্টের বদলে প্রবলেম সলভিং, প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এআই-চালিত সফটওয়্যার তৈরিতে মনোযোগ দিতে হবে

Post a Comment

Previous Post Next Post