সোনালী ব্যাংক পিএলসি-এর বাংলা কিউআর (Bangla QR) সেবার দারুণ কিছু সুবিধা


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন অনেকেই ব্যাংক বা এমএফএস-এর কিউআর (QR) সেবার সুবিধা নিয়ে কথা বলছেন। সেই ধারাবাহিকতায়, আজ আমি দেশের সর্ববৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান সোনালী ব্যাংক পিএলসি-এর বাংলা কিউআর (Bangla QR) সেবার দারুণ কিছু সুবিধা আপনাদের কাছে তুলে ধরছি।
ব্যবসায়ীদের সুবিধা ও পরিধির কথা বিবেচনা করে সোনালী ব্যাংক মূলত দুই ধরনের গ্রাহককে এই কিউআর সেবা প্রদান করছে:
১. সাধারণ মার্চেন্ট - Regular Merchant (ট্রেড লাইসেন্স ও চলতি হিসাবধারী):
যাদের ব্যবসায়ের ট্রেড লাইসেন্স আছে এবং ব্যাংকে চলতি হিসাব (Current Account) রয়েছে, তারা এই ক্যাটাগরিতে পড়বেন। 
সার্ভিস ফি: প্রতি হাজারে সর্বোচ্চ ৮ টাকা। ক্রেডিট কার্ড/এমএফএস/পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের মাধ্যমে পেমেন্টে ৮ টাকা কমিশন। ডেবিট কার্ড/ব্যাংক একাউন্ট/ প্রিপেইড কার্ড দ্বারা পেমেন্টে হাজারে ৫ টাকা কমিশন। সোনালী ব্যাংকের নিজস্ব ওয়ালেট দ্বারা পেমেন্টে হাজারে ১ টাকা কমিশন। 
বিশেষ সুবিধা: রেগুলার মার্চেন্টদের কিউআর-এর মাধ্যমে হওয়া লেনদেনের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক ঋণ (SME Loan) প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।
২. ক্ষুদ্র মার্চেন্ট - Micro Merchant (ট্রেড লাইসেন্সবিহীন ও সঞ্চয়ী হিসাবধারী):
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা এফ-কমার্স উদ্যোক্তা, যাদের এখনো ট্রেড লাইসেন্স করা হয়নি এবং চলতি হিসাব খোলার সুযোগ নেই, তারা ব্যক্তিগত সঞ্চয়ী হিসাব (Savings Account) দিয়েই এই সুবিধা নিতে পারবে
সার্ভিস ফি: প্রতি হাজারে সর্বোচ্চ ৭.৫ টাকা। ক্রেডিট কার্ড/এমএফএস/পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের মাধ্যমে পেমেন্টে ৭.৫ টাকা কমিশন। ডেবিট কার্ড/ব্যাংক একাউন্ট/ প্রিপেইড কার্ড দ্বারা পেমেন্টে হাজারে ৪.৫ টাকা কমিশন। সোনালী ব্যাংকের নিজস্ব ওয়ালেট দ্বারা পেমেন্টে হাজারে ১ টাকা কমিশন।

কেন সোনালী ব্যাংকের বাংলা কিউআর বেছে নেবেন?

সবচেয়ে সাশ্রয়ী সার্ভিস ফি: বাজারে অন্যান্য অনেক ব্যাংক যেখানে প্রতি হাজারে ৯-১০ টাকা এবং বিকাশ ১১.৫ টাকা পর্যন্ত চার্জ করে, সেখানে সোনালী ব্যাংক দিচ্ছে সবচেয়ে সাশ্রয়ী রেট।
দেশজুড়ে বিশাল নেটওয়ার্ক: দেশব্যাপী সোনালী ব্যাংকের ১২৩৫টি শাখা রয়েছে। ফলে আপনার ব্যবসায়ের পরিধি যেখানেই হোক না কেন, যেকোনো সময় খুব সহজেই নগদ অর্থ জমা, উত্তোলন বা স্থানান্তর করতে পারবেন।
আস্থা ও নিরাপত্তা: সোনালী ব্যাংক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এখানে আপনার প্রতিটি লেনদেন ও কষ্টার্জিত অর্থের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে।
অনেকের মনেই এই প্রশ্ন জাগতে পারে— "প্রতি হাজারে ৭.৫ বা ৮ টাকা, অর্থাৎ লাখে ৭৫০-৮০০ টাকা চার্জ কেন দেব?"
জাল ও ছেঁড়া নোট থেকে মুক্তি: ক্যাশ লেনদেনের জাল নোটের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়।
সহজ ব্যাংক ঋণ (SME Loan): নিয়মিত ডিজিটাল লেনদেনে শক্তিশালী ব্যাংক স্টেটমেন্ট তৈরি হয়, যা ব্যবসা সম্প্রসারণে লোন পেতে সাহায্য করে।
বিক্রি বৃদ্ধি: পকেটে নগদ টাকা না থাকলেও কাস্টমাররা ডিজিটাল পেমেন্টে স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে পারেন। ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকরা কিউআর পেমেন্টে রিওয়ার্ড পয়েন্ট পায়। সেক্ষেত্রে নগদ লেনদেনের চেয়ে কিউআর পেমেন্টেই তাঁরা স্বাছন্দ্যবোধ করে।
খুচরা টাকার ঝামেলা নেই: ভাঙতি টাকার অভাব দূর হয় এবং একদম নিখুঁত হিসেবে বিল পরিশোধ করা যায়।
নিরাপদ ও সহজ হিসাব: ক্যাশ চুরি বা ছিনতাইয়ের ঝুঁকি থাকে না। এছাড়া একটি মাত্র কিউআর কোড দিয়েই সব অ্যাপের পেমেন্ট নেওয়া যায় বলে দিন শেষে হিসাব মেলানো সহজ হয়।
এক কিউআরে সব সমাধান: কাউন্টারে একাধিক স্ট্যান্ডের বদলে একটি কিউআর দিয়েই সব ব্যাংক ও এমএফএস থেকে পেমেন্ট নেওয়া যায় এবং দিনশেষে হিসাব মেলানো সহজ হয়।
সোনালী ব্যাংকের বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী ক্ষুদ্র ও সাধারণ মার্চেন্টদের জন্য দারুণ একটি সুখবর রয়েছে। এখন থেকে আপনারা খুব সহজেই সোনালী ব্যাংকের নিজস্ব মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ 'সোনালী ই-ওয়ালেট' (Sonali e-Wallet) ব্যবহার করতে পারবেন।
আগে কেবল সঞ্চয়ী হিসাবধারীরা (Savings Account) এই সুবিধা পেলেও, চলতি হিসাবধারীদের (Current Account) জন্য ই-ওয়ালেট ব্যবহারের সুযোগ ছিল না। তবে এখন সেই সীমাবদ্ধতা আর নেই।

কীভাবে চালু করবেন? 

আপনার সংশ্লিষ্ট শাখায় গিয়ে ই-ওয়ালেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানালেই তিনি আপনার মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টটি অ্যাপে যুক্ত করে দেবেন। এর ফলে এখন থেকে স্মার্টফোনের মাধ্যমেই আপনি আপনার দৈনন্দিন লেনদেনের হিসাব, আয়-ব্যয় ট্র্যাকিং এবং ফান্ড ট্রান্সফারের মতো কাজগুলো নিমিষেই করতে পারবেন।

সোনালী ব্যাংক নিয়ে প্রচলিত অভিযোগ ও আমাদের বাস্তবতাঃ

আমরা জানি, সোনালী ব্যাংকের সেবা নিয়ে অনেক গ্রাহকের মনেই কিছু মিশ্র বা বিরূপ ধারণা রয়েছে। অনেকেই এখানে নিয়মিত ব্যবসায়িক লেনদেন করতে কিছুটা অনীহা প্রকাশ করেন। গ্রাহকদের প্রধান অভিযোগগুলো সাধারণত এমন হয়:
১. ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাজে ধীরগতি বা গা-ছাড়া ভাব।
২. শাখাগুলোতে সারাক্ষণ উপচে পড়া ভিড়।
৩. বেশিরভাগ শাখায় সেন্ট্রাল এসি বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকা।
৪. চেক বা অ্যাকাউন্ট খোলার ফর্ম লিখে দেওয়ার জন্য আলাদা লোকবল না থাকা (গ্রাহককে নিজের কাজ নিজেই করতে হয়)।
৫. টাকা উত্তোলন বা ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি সময় লাগা।
৬. বিকাশ বা অন্যান্য ব্যাংকগুলো মার্কেটিং এজেন্ট পাঠিয়ে আপনার দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হিসাব খুলে রঙিন লেমেনেটিং করা কিউআর স্ক্যানার দিয়ে যায়। ওদিকে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা আপনার দোকানে কখনোএসে প্রচারণা করেও না।
বেসরকারি ব্যাংকগুলো গ্রাহকের আস্থা রাখতে পারেনি বলেই সোনালী ব্যাংকে অত্যাধিক ভিড় দৃশ্যমান। এছাড়া সকল সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন, ভাতাভোগীদের একাউন্ট, সরকারি একাউন্ট সোনালী ব্যাংকের সাথে হওয়ায় সারাদিনই ব্যাংকে ভিড় লেগে থাকে। যে ব্যাংকে আস্থা রয়েছে, সে ব্যাংকে গ্রাহকের চাপ থাকাই স্বাভাবিক। আপনার টাকা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিস থেকে লুট হওয়ার চেয়ে সোনালীর গরম কুঠরিতে নিরাপদ থাকা বেশি প্রয়োজন।

অন্যান্য ব্যাংক ও এমএফএস সেবার দৈনিক টার্গেট থাকে বেশি সংখ্যক গ্রাহককে অনবোর্ড করানো। তাই তারা মার্কেটিং এর জন্য অস্থায়ী লোকবল নিয়োগ দেয়। দেখবেন, যারা আপনার অফিসে বসে একাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে সবকিছু করে দিয়ে যায়, বেশিরভাগ সার্ভিসগুলোরই বাংলা কিউআর সার্ভিস কমিশন বেশি। অতিরিক্ত কমিশন দিয়ে এরা এদের মার্কেটিং এজেন্টদের বেতন-বোনাস দেয়। রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকের এমন অস্থায়ী মার্কেটিং লোকবল নিয়োগ দেয়ার সুযোগ নেই। আমাদের Walk-in-Customer এত বেশি যে, আমাদের মাসিক টার্গেট এমনিই ফিলআপ হয়ে যায়। এমনকি সোনালী ব্যাংক আপনাকে অন্যান্য ব্যাংকের মত কালারফুল, লেমেনেটিং QR Code ও প্রদান করে না। সাদা কালো প্রিন্টে স্ক্যানার প্রোভাইড করে। কেননা এজন্যে শাখায় আলাদা বাজেট নেই। 

Post a Comment

Previous Post Next Post