বিদেশি বিনিয়োগ পেতে দেশি স্টার্টআপকে যে কারণে বিদেশে কোম্পানী খুলতে হয়

 বিদেশি বিনিয়োগ পেতে দেশি স্টার্টআপকে কেন বিদেশে কোম্পানী খুলতে হয় - সেই কারণটা আজকে ব্যাখ্যা করার চেস্টা করছি।

বাংলাদেশি স্টার্টআপ গুলোকে বিদেশি বিনিয়োগ নেয়ার জন্য বিদেশে একটি করে অফশোর হোল্ডিং কোম্পানী খুলতে হচ্ছে। আর এজন্য প্রথম পছন্দ হচ্ছে সিংগাপুর জুরিসডিকশন। কেননা সেদেশে ব্যবসা শুরু এবং সব ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রম করা পৃথিবীর যেকোন দেশের নাগরিকের জন্যই অত্যন্ত সহজ।


বিদেশে ইনকামের জন্য সিংগাপুরে কোন কর দিতে হয় না, আবার লোকাল ইনকামের করও অত্যন্ত কম, সেইসাথে সবকিছু হ্যাসেল ফ্রী এবং দুর্নীতিমুক্ত। অযাচিত কোন কাগজপত্র চাওয়ার প্যারা নাই সেদেশে। আবার নির্বিঘ্নে বৈদেশিক লেনদেনও করা যায়, দুনিয়ার যেকোন প্রান্ত থেকে। 


পৃথিবীর যেকোন দেশে বসেই সিংগাপুরে একটা কোম্পানী খোলার প্রাথমিক কাজ করা যায়, আর এজন্য খরচ হয় মাত্র ১ সিংডলার বা ৬৬ টাকা।


অন্যদিকে বাংলাদেশে কোম্পানী খোলা লোকাল লোকজনের জন্য ইদানিংকালে একটু সহজ হলেও, ট্রেড লাইসেন্স এবং ব্যাংকিং রুলগুলো ব্যবসা শুরুর জন্য একেবারেই সহায়ক নয়, সেইসাথে ব্যায়বহুল এবং ডকুমেন্ট জনিত হ্যাসেলের কথা বলে শেষ করা যাবে না।


এরসাথে যদি আবার বিদেশি বিনিয়োগ বা বিদেশ থেকে কোন ফান্ড কোম্পানীতে আনতে হয়, তাহলে বাংলাদেশে ব্যবসা করতে কতধানে কত চাল, সেটা ভালভাবেই বোঝা যায়। বিদেশি বিনিয়োগ সরাসরি দেশি কোম্পানীতে আনতে গেলে এত এত কাগজপত্র চাওয়া হয় যে, কোন বিদেশি ফান্ডদাতার পক্ষে সেগুলো দিনের পর দিন ধরে সাপ্লাই করার হ্যাসেল পোহানো সম্ভব নয়।


সেকারণে দেশি কোম্পনীগুলো বিদেশে তথা মেইনলি সিংগাপুরে প্যারেন্ট হোল্ডিং কোম্পানী খুলে, সেই প্যারেন্ট কোম্পানীর সিংগাপুর ব্যাংক একাউন্টে বিনিয়োগের টাকা নিচ্ছে।


এতেকরে বিনিয়োগকারী বিদেশি কোম্পানীকে কোনরকম ডকুমেন্ট বা প্রমাণাদি যোগাড়ের হ্যাসেলের মধ্য দিয়ে যেতে হয় না। ব্যাপারটা তাদের জন্য হ্যাসেল ফ্রী।


কিন্তু এরপর কি হয়? প্যারেন্ট কোম্পানী থেকে তো ফান্ড বাংলাদেশে আনতেই হয়, কারণ স্টার্টআপগুলোর মূল ব্যবসা তো এদেশে!


হ্যা, তাদেরকে প্যারেন্ট কোম্পানী থেকে দেশি লোকাল কোম্পানীতে ফান্ড ট্রান্সফার করে আনতে হয়, আর এজন্য তাদেরকে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী সকল হ্যাসেল সহ্য করেই সেটা করতে হয়। ফান্ডের পরিমাণ মাত্র ৫ হাজার ডলারের বেশি হলেই নানান প্রমাণপত্র হাজির করতে হয়। 


তবে এবারের পার্থক্যটা হল, ঝামেলাটা এবার পুরোপুরি নিজের ঘাড়েই, আর সেটা মেটানোর এখতিয়ারও পুরোপুরি নিজেরই। কেননা, প্যারেন্ট আর লোকাল কোম্পানী দুটোই উদ্যোক্তার নিয়ন্ত্রণে। সব কাগজপত্রও তার কাছে। 


বিদেশি বিনিয়োগকারীকে আর এসব হ্যাসেলে পড়তে হচ্ছে না এবার। মূলত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের নিয়ম-নীতি আর ডকুমেন্ট যোগাড় জনিত প্যারা থেকে মুক্তি দিতেই সবাইকে এখন বিদেশে একটি করে অফশোর প্যারেন্ট কোম্পানী খুলতে হচ্ছে।


আবার লোকাল কোম্পানী থেকে প্যারেন্ট কোম্পানীতে মুনাফার টাকা পাঠাতেও অনেক ঝামেলা। এই ঝামেলা সহ্য করে দেশি উদ্যোক্তা অবশেষে যখন বিদেশে প্যারেন্ট কোম্পনীর কাছে টাকা পাঠাতে পারে, তথন বিদেশি বিনিয়োগকারী সেখান থেকে খুব সহজেই বিনা হ্যাসেলে তার মুনাফার অংশ নিয়ে নিতে পারে। এক্ষেত্রেও তাকে ঝামেলা থেকে রক্ষা করে অফশোর প্যারেন্ট কোম্পানী।


মূলত বাংলাদেশি সিস্টেমজনিত প্যারা থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাচাঁতেই সবাইকে অফশোরে বিশেষকরে সিংগাপুরে প্যারেন্ট কোম্পানী খুলে তারপর বিনিয়োগ আনতে হচ্ছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post